🌿 Odisha Mystery Tour: পঞ্চলিঙ্গেশ্বর ও দেবকুন্ড রহস্যময় Waterfall Journey!
ওড়িশার রহস্যময় জলধারা: পঞ্চলিঙ্গেশ্বর ও দেবকুন্ড ভ্রমণ কাহিনী-
শহুরে ব্যস্ততা থেকে দূরে প্রকৃতির কোলে দু-দিন কাটাতে চাইলে ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ জেলা এক অনন্য গন্তব্য। সম্প্রতি আমরা একটি রিজার্ভ বাসে করে বেরিয়ে পড়েছিলাম এক রোমাঞ্চকর সফরে, যার মূল আকর্ষণ ছিল পঞ্চলিঙ্গেশ্বর এবং সিমলিপাল টাইগার রিজার্ভের বাফার জোনে অবস্থিত রহস্যময় দেবকুন্ড।
🛕 যাত্রার শুরু ও পঞ্চলিঙ্গেশ্বর দর্শন
আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল রাত ১০টা নাগাদ। বালেশ্বরের কাছাকাছি অবস্থিত পঞ্চলিঙ্গেশ্বরে যখন পৌঁছালাম, তখন ভোর প্রায় ৪টে । পাহাড়ের কোল ঘেঁষে অবস্থিত এই জায়গায় সকালের প্রাতঃকর্ম সেরে আমরা পাহাড়ের উপরে উঠতে শুরু করলাম । এখানকার প্রধান বিশেষত্ব হলো একটি পাহাড়ি ঝরনা, যার শীতল জলধারার নিচে রয়েছে পাঁচটি শিবলিঙ্গ। ঝরনার জলের তোড়ে লিঙ্গগুলো সরাসরি দেখা না গেলেও, পাথরের খাঁজে হাত দিয়ে সেই পবিত্র পরশ অনুভব করা এক অদ্ভুত প্রশান্তি দেয়।
🌳 দেবকুন্ড পথে: অরণ্যের হাতছানি
পঞ্চলিঙ্গেশ্বর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সিমলিপাল টাইগার রিজার্ভের বাফার জোন— দেবকুন্ড। সেখানে পৌঁছাতে আমাদের দুপুর আড়াইটে বেজে গেল। দেবকুন্ড মূল ঝরনাটি গেট থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার ভেতরে অরণ্যের গভীরে অবস্থিত । পরিবেশ রক্ষার খাতিরে সেখানে সাধারণ গাড়ি প্রবেশ নিষেধ, পর্যটকদের যেতে হয় সৌরশক্তি চালিত টোটোতে করে। রেজিস্ট্রেশন ফি এবং টোটো ভাড়া মিলিয়ে জনপ্রতি খরচ পড়ে মাত্র ৭০ টাকা । একেকটি টোটোতে ১৪ জন যাত্রী নিয়ে যখন গভীর জঙ্গলের বুক চিরে গাড়ি চলে, তখন চারপাশের ৫শ-৭শ বছরের প্রাচীন মহীরুহগুলো দেখে মনে হয় যেন কোনো আদিম অরণ্যে প্রবেশ করছি ।
💦 দেবকুন্ড রূপ ও রহস্য
দেবকুন্ড জলপ্রপাতের দৃশ্য এক কথায় অতুলনীয় । ঝরনার ঠিক পাশেই রয়েছে অম্বিকা দেবীর মন্দির, যা ৫১টি সতীপীঠের অন্যতম একটি হিসেবে গণ্য করা হয়। লোককথা অনুযায়ী, এই কুণ্ডে স্বয়ং দেবতারা স্নান করতে আসতেন, আর সেই থেকেই এর নাম 'দেবকুন্ড' । ঝরনার স্বচ্ছ জলে রঙ-বেরঙের প্রজাপতির ওড়াউড়ি আর জলের তলায় মাছের কিলবিলানি দেখে মনে হয় প্রকৃতি এখানে দু-হাত উজাড় করে সৌন্দর্য ঢেলে দিয়েছে ।
🌑 গা ছমছমে অভিজ্ঞতা ও সতর্কতা
দেবকুন্ড সৌন্দর্য যেমন মোহময়, এর পরিবেশ তেমনই রহস্যময়। স্থানীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এখানে সূর্যাস্তের পর কোনো মানুষ থাকতে পারে না। শোনা যায়, রাতে কেউ এখানে থেকে গেলে তারা আর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে না বা নিখোঁজ হয়ে যায় । এছাড়া বন্যপ্ৰাণী যেমন হায়না বা হাতির উপদ্রব থাকায় বনদপ্তর বিকেল ৪টে থেকে ৪টে ৩০মিনিটের মধ্যেই সমস্ত পর্যটককে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেয় । আমাদের অভিজ্ঞ ড্রাইভারও আমাদের দ্রুত জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসার তাগাদা দিচ্ছিলেন ।
🚍 ফেরা এবং অন্যান্য দর্শনীয় স্থান
দেবকুন্ড থেকে বেরিয়ে আমরা গেলাম বালেশ্বরের ক্ষীরচোরা গোপীনাথ মন্দির এবং ইমাম জগন্নাথ মন্দির দর্শনে। বালেশ্বরেই আমাদের রাতের রান্নাবান্না এবং খাওয়া-দাওয়া সারা হলো। এরপর আবার বাসে করে রাতের যাত্রা শেষে পরের দিন ভোরে আমরা সুস্থভাবে ঘরে ফিরে এলাম ।
📌 কিছু টিপস:
- 🚐 এই জায়গাগুলো ঘোরার জন্য ট্রেনের চেয়ে রিজার্ভ বাস বা গাড়ি বেশি সুবিধাজনক, কারণ মূল শহর থেকে এগুলো বেশ দূরে ।
- 🌲 জঙ্গলের ভেতরে নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই বেরিয়ে আসা নিরাপদ।
প্রকৃতি এবং আধ্যাত্মিকতার এক অদ্ভুত মেলবন্ধন এই দেবকুন্ড
ও পঞ্চলিঙ্গেশ্বর, যা আপনার স্মৃতিতে চিরকাল অমলিন হয়ে থাকবে।
✍ সুজিত কুমার মাইতি
এই লেখাটি লিখেছেন সুজিত কুমার মাইতি ,উনি একজন ভ্রমণ পিপাসু মানুষ, এই লেখার মাধ্যমে উনি ওনার ওড়িশা রাজ্যের পঞ্চলিঙ্গেশ্বর ও দেবকুন্ড ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।


