বাজার থেকে কেনা ফল ও মশলায় বিষ নেই তো? চিনুন সহজ উপায়
চকচকে আপেল বা টকটকে লাল লঙ্কার গুঁড়ো দেখে যারা ভাবেন সেরা জিনিসটা কিনছেন, তারা আসলে বড় ভুল করছেন। আধুনিক বাজারে 'ভালো দেখানো' মানেই 'ভালো হওয়া' নয়। আপনার রান্নাঘরকে বিষমুক্ত করতে এই পদ্ধতিগুলো মেনে চলুন:
১. ফলের ভেজাল ও রাসায়নিক সনাক্তকরণ
ফল পাকানো বা সংরক্ষণের জন্য বর্তমানে কার্বাইড এবং মোমের (Wax) ব্যাপক ব্যবহার হচ্ছে।
আপেলের মোম পালিশ:
আপেল দীর্ঘক্ষণ তাজা ও চকচকে দেখাতে এর গায়ে মোমের প্রলেপ দেওয়া হয়। একটি ছুরি দিয়ে আপেলের খোসায় আলতো করে ঘষুন। যদি সাদা পাউডারের মতো কোনো পদার্থ বের হয়, তবে বুঝবেন সেটি কৃত্রিম মোম। এটি লিভার ও কিডনির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
কার্বাইডে পাকানো আম বা কলা:
প্রাকৃতিকভাবে পাকা ফল সব জায়গায় সমানভাবে পাকে না, কোথাও একটু সবুজ বা হলদে ভাব থাকে। কিন্তু কার্বাইডে পাকানো ফল পুরোটাই সমানভাবে হলুদ দেখায়। এছাড়া কার্বাইডে পাকানো ফল জলে দিলে ভাসে, কিন্তু প্রাকৃতিকভাবে পাকা ফল জলে ডুবে যায়।
তরমুজে লাল রং:
অনেক সময় তরমুজের ভেতরে লাল দেখানোর জন্য এরিথ্রোসিন (Erythrosine) ইনজেকশন দেওয়া হয়। তরমুজ কাটার পর যদি দেখেন মাঝখানের অংশ অতিরিক্ত গাঢ় লাল এবং ছিদ্রযুক্ত, তবে সতর্ক হন।
২. মশলার ভেজাল ধরার কৌশল
রান্নার মশলায় কৃত্রিম রং, ইটের গুঁড়ো বা ক্ষতিকর রাসায়নিক মেশানো এখন নিত্যদিনের ঘটনা।
লঙ্কার গুঁড়ো:
এক গ্লাস জলে এক চামচ লঙ্কার গুঁড়ো দিন। যদি দেখেন জলটি দ্রুত লাল হয়ে যাচ্ছে এবং ওপরের দিকে রঙের আস্তরণ পড়ছে, তবে তাতে কৃত্রিম রং মেশানো আছে। এছাড়া কিছুক্ষণ পর গ্লাসের নিচে বালি বা মাটির মতো কিছু জমে থাকলে বুঝবেন তাতে ইটের গুঁড়ো মেশানো হয়েছে।
হলুদ গুঁড়ো:
হলুদে অনেক সময় ক্ষতিকর 'মেটানিল ইয়েলো' মেশানো হয়। এক গ্লাস জলে হলুদ গুঁড়ো মিশিয়ে তাতে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস বা অ্যাসিড দিন। যদি জলটি দ্রুত বেগুনি হয়ে যায়, তবে বুঝবেন এতে রাসায়নিক আছে। আসল হলুদ গুঁড়ো মেশালে জল হালকা হলদে হবে কিন্তু রং বদলাবে না।
গোটা গোলমরিচ:
গোলমরিচে অনেক সময় পেঁপে বীজ শুকিয়ে মিশিয়ে দেওয়া হয়। গোলমরিচ জলে দিলে ডুবে যায়, কিন্তু পেঁপে বীজ ওজনে হালকা হওয়ায় জলের ওপর ভাসতে থাকে।
৩. দুধে ভেজাল পরীক্ষা
দুধে ডিটারজেন্ট বা স্টার্চ মেশানো আছে কি না তা সহজেই বোঝা যায়। একটু দুধ নিয়ে সমান পরিমাণ জল মেশান এবং ভালোভাবে ঝাঁকান। যদি প্রচুর ফেনা তৈরি হয় এবং তা দীর্ঘক্ষণ থাকে, তবে বুঝবেন দুধে ডিটারজেন্ট মেশানো আছে।
পরিত্রাণের উপায়:
ফল খাওয়ার আগে অন্তত ১ ঘণ্টা লবণ মেশানো জলে ভিজিয়ে রাখুন, এতে ওপরের রাসায়নিক অনেকটাই কেটে যায়।
অসময়ের ফল কেনা এড়িয়ে চলুন।
প্যাকেটজাত মশলার চেয়ে গোটা মশলা কিনে বাড়িতে গুঁড়ো করে নেওয়া সবথেকে নিরাপদ।
মনে রাখবেন:
আপনার একটু সচেতনতা আপনার পরিবারের ভবিষ্যৎ সুস্থতা নিশ্চিত করতে পারে। বাজার করার সময় চোখের দেখার চেয়ে যুক্তি আর পরীক্ষাকে বেশি গুরুত্ব দিন।
All images in this article are AI-generated visuals.

