আজকের দিনে সামান্য মাথা ব্যথা, গা ব্যথা বা দাঁত ব্যথায় আমরা অনেকেই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই ফার্মেসি থেকে পেইনকিলার বা ব্যথানাশক ঔষধ কিনে খেয়ে ফেলি। অনেক সময় আমরা এই ঔষধগুলো মুড়িমুড়কির মতো খেতে থাকি, ভাবি সামান্য ব্যথায় আবার ডাক্তার দেখানোর কী প্রয়োজন? কিন্তু আপনি কি জানেন, এই সামান্য অভ্যাসের মাশুল আপনার শরীরকে কীভাবে দিতে হতে পারে? অনিয়ন্ত্রিত পেইনকিলার সেবন আপনার লিভারের জন্য একটি মারাত্মক ‘সাইলেন্ট কিলার’ বা নীরব ঘাতক হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
কেন পেইনকিলার লিভারের জন্য ক্ষতিকর? আমরা যখন কোনো ঔষধ খাই, তা লিভারে গিয়ে বিপাক (metabolism) হয়। পেইনকিলার, বিশেষ করে প্যারাসিটামল (Acetaminophen) গ্রুপের ঔষধগুলো অতিরিক্ত মাত্রায় সেবন করলে লিভারের ওপর অত্যধিক চাপ পড়ে। লিভার যখন এই ঔষধগুলো ভাঙতে ব্যর্থ হয়, তখন শরীরে বিষাক্ত পদার্থ জমা হতে শুরু করে। দীর্ঘমেয়াদে এই অভ্যাস লিভারের কোষগুলোকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে, যার ফলে লিভার সিরোসিস বা লিভার ফেলিউরের মতো মারাত্মক রোগ দেখা দিতে পারে।
কী করবেন? সামান্য ব্যথায় পেইনকিলার খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করুন। ব্যথার কারণ খোঁজার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে গরম বা ঠান্ডা সেঁক, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, বা হালকা ব্যায়ামের মাধ্যমে ব্যথা কমানোর চেষ্টা করুন। যদি ব্যথা অসহ্য হয়, তবে অবশ্যই একজন রেজিস্টার্ড ডাক্তারের পরামর্শ নিন এবং ডাক্তারের দেওয়া প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী সঠিক মাত্রায় ঔষধ সেবন করুন। মনে রাখবেন, লিভার হলো আমাদের শরীরের পাওয়ার হাউস, এর যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সামান্য অসচেতনতায় আপনার লিভার চিরতরে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
All images in this article are AI-generated visuals.

