ভোটের কালি বা Indelible Ink নিয়ে আমাদের সবার মনেই বেশ কৌতূহল থাকে। আঙুলে ওই এক ফোঁটা কালি মানেই তো গণতন্ত্রের উৎসবে তোমার অংশগ্রহণের ছাপ।
তাহলে চলুন, এই কালির পেছনের বিজ্ঞানটা সহজ করে জানা যাক:
এই কালি আসলে কী?
এই কালির প্রধান উপাদান হলো সিলভার নাইট্রেট (AgNO_{3})। ভারতে এই কালি তৈরি করার একচ্ছত্র অধিকার আছে মহীশূরের 'মহীশূর পেইন্টস অ্যান্ড ভার্নিশ লিমিটেড' (MPVL) নামে একটি কোম্পানির কাছে। ১৯৪৫ সাল থেকে তারাই এটি তৈরি করে আসছে।
এটা কাজ করে কীভাবে?
কালিটা আঙুলে লাগানোর সাথে সাথেই এটি জাদুর মতো কাজ শুরু করে:
ত্বকের সাথে বিক্রিয়া: সিলভার নাইট্রেট আমাদের ত্বকের নুন (Sodium Chloride) এবং ময়েশ্চারের সাথে বিক্রিয়া করে সিলভার ক্লোরাইড তৈরি করে।
আলোর ভূমিকা: এই সিলভার ক্লোরাইড আলোর সংস্পর্শে আসামাত্রই কালো রঙে পরিণত হয় এবং ত্বকের সাথে এমনভাবে আটকে যায় যে এটি জলে ধুয়ে যায় না।
স্থায়িত্ব: এটি শুধু ত্বকের ওপরেই বসে থাকে না, বরং চামড়ার ওপরের স্তরের প্রোটিনের সাথে মিশে যায়। ফলে সাবান বা ডিটারজেন্ট দিয়ে ঘষলেও এটি ওঠে না।
কতদিন থাকে এবং কীভাবে রিমুভ হয়?
এই কালি তোলার কোনো শর্টকাট বা রাসায়নিক উপায় নেই। এটি সাধারণত ৭২ ঘণ্টা থেকে ২-৩ সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে।
স্বাভাবিক প্রক্রিয়া: আমাদের শরীরের চামড়া প্রতিনিয়ত পাল্টায় (Skin cell renewal)। কালিটা যেহেতু চামড়ার একদম উপরের স্তরে থাকে, তাই পুরনো চামড়া ঝরে গিয়ে যখন নতুন চামড়া আসে, তখনই এই কালি পুরোপুরি পরিষ্কার হয়। নখের ওপর কালি লাগলে সেটি নখ বড় হওয়ার সাথে সাথে কাটতে কাটতে পরিষ্কার হয়।
এটা কি রিমুভ করার কোনো প্রসেস আছে?
সরাসরি উত্তর হলো— না, জেনুইন কোনো প্রসেস নেই।
অনেকে রিমুভার, পেট্রোল, লেবু বা ব্লিচ দিয়ে ঘষাঘষি করার কথা বলেন, কিন্তু তাতে লাভের চেয়ে ক্ষতি বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যেহেতু এটি চামড়ার প্রোটিনের সাথে বন্ড তৈরি করে ফেলে, তাই জোর করে তুলতে গেলে চামড়া ছিলে যেতে পারে বা র্যাশ বেরোতে পারে।
এক চিমটি মজা: নির্বাচনের সময় যদি কেউ বলে যে সে কালি তুলে আবার ভোট দিতে যাবে, তাকে মনে করিয়ে দিন যে কালি তোলা মানে নিজের চামড়া তুলে ফেলা! তাই গণতন্ত্রের এই চিহ্নটা কয়েকদিন সগৌরবে বয়ে বেড়ানোই ভালো।
তাই ভোট দেওয়া হয়ে গেলে কালিটা সযত্নে রেখে দিন, ওটা তো আপনার গর্বের চিহ্ন!

